এক টুকরো বরফ আর সেটিকে গুঁড়ো করা বরফ, দুটোই এক ভর। কিন্তু কোনটা দ্রুত গলে? গুঁড়ো বরফ। কারণ তার পৃষ্ঠতল বেশি, তাই বেশি অংশ বাতাসের সংস্পর্শে আসে।
সিমেন্টের ক্ষেত্রেও একই কথা। বিক্রিয়া শুরু হয় দানার গায়ে, যেখানে পানি লাগে। তাই দানা যত ছোট, বিক্রিয়ার জায়গা তত বেশি।
ফাইননেস কেন গুরুত্বপূর্ণ?
সিমেন্ট মিলে ক্লিংকার ও জিপসাম গুঁড়া করা হয়। কতটা মিহি করা হবে, সেটা কারখানার একটি বড় সিদ্ধান্ত। এর প্রভাব:
- বেশি মিহি: শুরুর দিকে বিক্রিয়া ও শক্তি বাড়ার প্রবণতা বেশি। কিন্তু পানি বেশি লাগতে পারে, তাপ বেশি ছাড়তে পারে, আর মিল চালাতে বিদ্যুৎ বেশি লাগে
- কম মিহি: বিদ্যুৎ কম লাগে, কিন্তু শুরুর শক্তি কম হওয়ার সম্ভাবনা থাকে
অর্থাৎ ফাইননেস একটি ভারসাম্যের বিষয়: শক্তি, খরচ ও কাজের সুবিধা।
Blaine ফাইননেস কী?
Blaine পরীক্ষা সিমেন্টের specific surface মাপে, অর্থাৎ প্রতি একক ভরে মোট পৃষ্ঠতল কত। এটি করা হয় বাতাসের সাহায্যে।
ধারণাটা এরকম: একটি নির্দিষ্ট আকারের পাত্রে নির্দিষ্ট ঘনত্বে সিমেন্টের একটি স্তর বসানো হয়। এরপর সেই স্তর ভেদ করে বাতাস পাঠানো হয়। সিমেন্ট যত মিহি, দানার ফাঁক তত সরু আর আঁকাবাঁকা, তাই বাতাসের যেতে সময় তত বেশি লাগে। সেই সময় মেপে ফাইননেস হিসাব করা হয়।
সম্পর্কটি সরলভাবে এভাবে লেখা যায়:
এখানে:
- = specific surface
- = বাতাস যেতে যে সময় লাগে
- = স্তরের porosity (ফাঁকের অনুপাত)
- = সিমেন্টের ঘনত্ব
- = বাতাসের সান্দ্রতা (viscosity)
বাস্তবে একটি যন্ত্র-ধ্রুবক ব্যবহার হয়, যা পরিচিত রেফারেন্স সিমেন্ট দিয়ে ক্যালিব্রেশন করে বের করা হয়। তাই Blaine যন্ত্রের নিয়মিত ক্যালিব্রেশন খুব জরুরি।
উৎস ও পদ্ধতি: Blaine-এর পূর্ণ পদ্ধতি EN 196-6:2018 (সিমেন্ট পরীক্ষা, অংশ ৬: ফাইননেস) এবং ASTM C204-07 স্ট্যান্ডার্ডে দেওয়া আছে। Blaine বাতাস-প্রবাহের সমতুল্য পৃষ্ঠতল দেয়, কণার প্রকৃত মোট পৃষ্ঠতল নয়। পদ্ধতিটি তুলনামূলক (relative), পরম (absolute) নয়। দুটি স্ট্যান্ডার্ডের মধ্যে কয়েকটি পার্থক্য আছে, তাই ফল তুলনা করার আগে কোন পদ্ধতি ব্যবহার হয়েছে তা দেখে নিন:
- বেডের porosity: EN 196-6-এ সাধারণত ০.৫০০; ASTM C204-এ ক্যালিব্রেশনে ০.৫০০, আর Type III ও খুব মিহি সিমেন্টে ০.৫৩০।
- সিমেন্টের ঘনত্ব: EN 196-6-এ প্রতিটি নমুনার ঘনত্ব মেপে নিতে হয়। ASTM C204-এ পোর্টল্যান্ড সিমেন্টের জন্য ৩.১৫ g/cm³ ধরা হয়। EN-এর ব্যাখ্যা অনুযায়ী এই অনুমানে ফলে ১% পর্যন্ত ত্রুটি হতে পারে, আর মিশ্র সিমেন্টে ত্রুটি আরও বড় হতে পারে।
- রেফারেন্স পদার্থ: EN-এ জানা পৃষ্ঠতলের সিমেন্ট বা কোয়ার্টজ বালু; ASTM-এ NIST SRM 114।
- পুনঃক্যালিব্রেশন: EN-এ প্রতি ১০০০ পরীক্ষার পর; ASTM-এ অন্তত প্রতি ২½ বছরে।
- নির্ভুলতা: EN-এ পুনরাবৃত্তির মান ২০ cm²/g; পুনরুৎপাদনযোগ্যতার মান ১০০ cm²/g (৫০০০ cm²/g পর্যন্ত) বা ২০০ cm²/g (৫০০০ cm²/g-এর বেশি)। ASTM-এ একই অপারেটরের দুটি ফলের পার্থক্য গড়ের ৩.৪%-এর বেশি হওয়া উচিত নয়।
- ফল লেখা: দুটি পদ্ধতিতেই নিকটতম ১০ cm²/g (= ১ m²/kg) পর্যন্ত লেখা হয়।
এককের রূপান্তর
ফল কখনো m²/kg এককে, কখনো cm²/g এককে লেখা হয়। রূপান্তর সহজ:
উদাহরণ: ৩৫০ m²/kg মানে ৩৫০০ cm²/g। এই সংখ্যাগুলো শুধু রূপান্তর বোঝানোর জন্য নেওয়া, কোনো সিমেন্টের প্রকৃত মান নয়।
শুধু Blaine দেখলে কী ভুল হতে পারে?
Blaine একটি সংখ্যা দেয়, কিন্তু কণার আকারের বণ্টন (particle size distribution, PSD) পুরোটা বলে না। দুটি সিমেন্টের Blaine সমান হলেও PSD আলাদা হতে পারে। একটিতে খুব সূক্ষ্ম কণা বেশি, অন্যটিতে মাঝারি কণা বেশি। তাদের শক্তি ও পানির চাহিদাও আলাদা হতে পারে।
তাই অনেক ল্যাব Blaine-এর পাশাপাশি অন্য পদ্ধতিও দেখে:
- নির্দিষ্ট ছাঁকনিতে residue (কত শতাংশ আটকে থাকে)
- লেজার ডিফ্র্যাকশন দিয়ে PSD
পরিসর সম্পর্কে নোট: Blaine-এর কোনো একক “সঠিক” মান স্ট্যান্ডার্ডে বাঁধা নেই। তবে কয়েকটি রেফারেন্স পাওয়া যায়:
- সাধারণ পোর্টল্যান্ড সিমেন্টে প্রায় ৩০০–৩৫০ m²/kg (৩০০০–৩৫০০ cm²/g), আর দ্রুত-শক্তি সিমেন্টে প্রায় ৪০০–৪৫০ m²/kg। (H.F.W. Taylor, Cement Chemistry, ২য় সংস্করণ, ১৯৯৭)
- ASTM C150-22-এ বেশিরভাগ টাইপের জন্য সর্বনিম্ন ২৬০ m²/kg; টাইপ III-এর জন্য কোনো সর্বনিম্ন সীমা নেই।
এগুলো শুধু রেফারেন্স, কারখানার লক্ষ্যমাত্রা নয়। আপনার সিমেন্টের ধরন, শক্তি-ক্লাস ও মিলের ক্ষমতা অনুযায়ী লক্ষ্যমাত্রা কারখানার নিজস্ব ডেটা ও প্রযোজ্য স্ট্যান্ডার্ড দেখে ঠিক করতে হবে।
কোয়ালিটি কন্ট্রোলে একটি অভ্যাস
প্রতি শিফটে Blaine মাপলে একটি কন্ট্রোল চার্টে বসান। হঠাৎ ফাইননেস পড়ে গেলে মিলের সমস্যা, যেমন গ্রাইন্ডিং মিডিয়ার ক্ষয় বা সেপারেটরের গোলমাল, আগেই ধরা পড়তে পারে।
সারকথা
- সিমেন্ট যত মিহি, পৃষ্ঠতল তত বেশি, বিক্রিয়া তত দ্রুত
- Blaine বাতাসের প্রবাহ মেপে specific surface বের করে
- 1 m²/kg = 10 cm²/g
- Blaine একা যথেষ্ট নয়, কণার আকার বণ্টনও গুরুত্বপূর্ণ