সিমেন্ট কারখানার ভেতরটা একটা বিশাল রান্নাঘরের মতো। কাঁচামাল ঢোকে এক মাথায়, আর অন্য মাথা দিয়ে বেরোয় ব্যাগে ভরা সিমেন্ট। মাঝের পথটা কয়েকটি ধাপে ভাগ করে নিলে পুরো ছবিটা সহজে ধরা যায়।
আধুনিক কারখানায় সাধারণত যে পদ্ধতি চলে
প্রধানত ড্রাই প্রসেস (dry process) অনুসরণ করা হয়। এখানে কাঁচামাল শুকনো গুঁড়া অবস্থায় চুল্লিতে যায়। আগের দিনে ওয়েট প্রসেস (wet process)-এ কাঁচামাল কাদার মতো স্লারি করে চুল্লিতে দেওয়া হতো, যাতে পানি শুকাতে বাড়তি জ্বালানি লাগত। জ্বালানি খরচের কারণে নতুন প্ল্যান্টে ড্রাই প্রসেসই বেশি দেখা যায়।
ধাপগুলো
| ধাপ | কী হয় |
|---|---|
| ১. খনি ও ক্রাশিং | চুনাপাথর খনি থেকে তুলে ক্রাশারে ছোট টুকরো করা হয় |
| ২. স্টোরেজ ও মিশ্রণ | আলাদা আলাদা কাঁচামাল জমা করে অনুপাত ঠিক রাখতে মেশানো হয় |
| ৩. রো মিল (raw mill) | কাঁচামাল মিহি গুঁড়ায় পরিণত হয়, যার নাম raw meal। এরপর একটি সাইলোতে raw meal মিশিয়ে সমরূপ (homogenize) করা হয় |
| ৪. প্রিহিটার ও ক্যালসিনার | গরম গ্যাসের সাহায্যে raw meal আগে থেকে গরম হয়, চুনাপাথর ভাঙার (calcination) বড় অংশ প্রায়ই এখানেই হয় |
| ৫. রোটারি কিলন | সবচেয়ে বেশি তাপে পুড়ে ক্লিংকার তৈরি হয় |
| ৬. ক্লিংকার কুলার | গরম ক্লিংকারকে ঠান্ডা করা হয় |
| ৭. সিমেন্ট মিল | ক্লিংকার, জিপসাম ও অন্য উপাদান একসঙ্গে মিহি করে গুঁড়া করা হয় |
| ৮. সাইলো ও প্যাকিং | সিমেন্ট সাইলোতে জমা হয়, তারপর ব্যাগে বা বাল্কে বের হয় |
এই সারণি মূল ধারাটুকু দেখায়। পাশাপাশি কয়লা বা অন্য জ্বালানি গুঁড়া করার আলাদা মিলও চলে, যা এখানে ধরা হয়নি।
কোন ধাপে কোয়ালিটি ঠিক হয়?
কোয়ালিটি আসলে প্রতিটি ধাপেই তৈরি হয়, তবে কয়েকটি জায়গা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ:
- কাঁচামালের অনুপাত, কারণ এখানেই ঠিক হয় ক্লিংকারে কোন খনিজ কত হবে
- কিলনের পোড়ানো, কারণ এখানে গুণমান তৈরি হয়
- সিমেন্ট মিলের গুঁড়া করা, কারণ এখানে ঠিক হয় সিমেন্টের মিহিতা (fineness) ও জিপসামের পরিমাণ, যা সেটিং টাইম ও শক্তির ওপর প্রভাব ফেলে
প্রতিটি ধাপে নমুনা নিয়ে ল্যাবে পরীক্ষা করা হয়। এই পরীক্ষাগুলো নিয়ে সামনের লেখাগুলোতে বিস্তারিত থাকবে।
সব কারখানা কি পুরো পথটা অনুসরণ করে?
না। কিছু কারখানা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সবটাই করে, খনি থেকে ব্যাগ। আবার কিছু কারখানা শুধু গ্রাইন্ডিং ইউনিট, তারা ক্লিংকার কিনে এনে ধাপ ৭ ও ৮ করে। এমন কারখানায় ধাপ ১ থেকে ৬ থাকে না।
জ্বালানি ও পরিবেশের দিক
চুল্লি গরম রাখতে জ্বালানি লাগে (কয়লা, গ্যাস বা বিকল্প জ্বালানি)। আর চুনাপাথর ভাঙার সময় যে কার্বন ডাই-অক্সাইড বের হয়, তা আলাদা একটি উৎস। জ্বালানি-দক্ষতা ও কার্বন ফুটপ্রিন্ট নিয়ে পরে বিস্তারিত লেখা থাকবে।