দোকানে গিয়ে সিমেন্ট চাইলে প্রশ্ন আসে, “কোন সিমেন্ট?” ব্যাগে লেখা থাকে OPC, PCC বা অন্য কিছু। এই নামগুলো আসলে কী বোঝায়, আর পার্থক্যটা কোথায়, এটাই আজকের বিষয়।
পার্থক্যের মূল কারণ
সব পোর্টল্যান্ড-ভিত্তিক সিমেন্টের হৃদয় হলো ক্লিংকার। পার্থক্য তৈরি হয় ক্লিংকারের সঙ্গে আর কী মেশানো হচ্ছে তা থেকে। কোনো সিমেন্টে প্রায় পুরোটাই ক্লিংকার, আবার কোনোটাতে ক্লিংকারের একটি অংশের জায়গায় থাকে স্ল্যাগ, ফ্লাই অ্যাশ, পোজোলানা বা চুনাপাথরের গুঁড়া।
সাধারণ নামগুলো
| নাম | পূর্ণরূপ | সংক্ষেপে কী |
|---|---|---|
| OPC | Ordinary Portland Cement | প্রায় পুরোটাই ক্লিংকার ও সামান্য জিপসাম |
| PPC | Portland Pozzolana Cement | ক্লিংকারের সঙ্গে পোজোলানা জাতীয় উপাদান (যেমন ফ্লাই অ্যাশ) |
| PSC | Portland Slag Cement | ক্লিংকারের সঙ্গে granulated blast furnace slag |
| PCC | Portland Composite Cement | ক্লিংকারের সঙ্গে একাধিক উপাদানের মিশ্রণ |
ইউরোপীয় স্ট্যান্ডার্ড EN 197-1 সিমেন্টকে CEM I থেকে CEM V পর্যন্ত পাঁচটি মূল পরিবারে ভাগ করে। OPC-এর কাছাকাছি ধরন হলো CEM I, যেখানে ক্লিংকার ৯৫–১০০%। বাকি নামগুলোর সঙ্গে EN-এর নোটেশন হুবহু মেলে না, তাই নিচের তুলনা শুধু ধারণার জন্য।
| বাজারের নাম | EN 197-1-এর কাছাকাছি ধরন | মন্তব্য |
|---|---|---|
| OPC | CEM I | ক্লিংকার ৯৫–১০০%। OPC ভারতীয় IS 269-এর নাম, EN নোটেশন নয় |
| PPC (ফ্লাই অ্যাশ ভিত্তিক) | CEM II/A-V (ফ্লাই অ্যাশ ৬–২০%) বা CEM II/B-V (ফ্লাই অ্যাশ ২১–৩৫%) | BDS EN 197-1-এ ফ্লাই অ্যাশ V (সিলিসিয়াস) বা W (ক্যালকেরিয়াস) দিয়ে লেখা হয়। বাংলাদেশে আমদানিকৃত ফ্লাই অ্যাশ সাধারণত সিলিসিয়াস (V)। P হলো প্রাকৃতিক পোজোলানা, ফ্লাই অ্যাশ নয় |
| PSC (স্ল্যাগ ভিত্তিক) | কোনো একক সমতুল্য নেই। স্ল্যাগের সীমা কাছাকাছি CEM II/B-S (২১–৩৫%) ও CEM III/A (৩৬–৬৫%) এর সঙ্গে মেলে | IS 455-এ স্ল্যাগ ২৫–৭০%। শুধু তুলনার জন্য |
| PCC (কম্পোজিট) | কোনো একক সমতুল্য নেই | IS 16415-এ ক্লিংকার ৩৫–৬৫%, ফ্লাই অ্যাশ ১৫–৩৫%, স্ল্যাগ ২০–৫০%। শুধু তুলনার জন্য |
তুলনাটি BDS EN 197-1-এর সারণি ১-এর ভিত্তিতে। PSC ও PCC-র জন্য কোনো একক EN মিল নেই, তাই এগুলোকে সরাসরি একই ধরন ধরা যাবে না। বাজারে কোন ধরন কতটা প্রচলিত, তা এখানে সংখ্যা দিয়ে বলা হয়নি।
স্ট্রেংথ ক্লাস: 32.5, 42.5, 52.5
EN 197-1-এ সিমেন্টের ২৮ দিনের কম্প্রেসিভ স্ট্রেংথ অনুযায়ী তিনটি ক্লাস আছে: 32.5, 42.5 ও 52.5। ক্লাসের সংখ্যাটিই ২৮ দিনে ন্যূনতম প্রয়োজনীয় শক্তি (MPa)। এর সঙ্গে শুরুর দিকের (২ বা ৭ দিনের) শক্তির শর্তও থাকে, আর কিছু ক্লাসে ঊর্ধ্বসীমাও থাকে। সঙ্গে থাকে N (স্বাভাবিক গতিতে শক্তি অর্জন) বা R (শুরুর দিকে দ্রুত শক্তি অর্জন) অক্ষর।
কোনটি কেমন আচরণ করে (সাধারণ প্রবণতা)
স্ল্যাগ, ফ্লাই অ্যাশ বা পোজোলানা মেশানো সিমেন্টে সাধারণত দেখা যায়:
- শুরুর দিকে শক্তি বাড়ে ধীরে, তাই কিউরিং বেশি যত্ন করে করতে হয়
- হাইড্রেশনের তাপ তুলনামূলক কম হতে পারে, যা বড় ঢালাইয়ে কাজে আসে
- নির্দিষ্ট পরিবেশে (যেমন সালফেট বা ক্লোরাইডের উপস্থিতি) টেকসই হওয়ার সুবিধা থাকতে পারে
OPC-তে সাধারণত শুরুর শক্তি তুলনামূলক দ্রুত আসে। এগুলো সাধারণ প্রবণতা। একই ধরনের সিমেন্টও উৎপাদক ও উপাদানের মান অনুযায়ী আলাদা আচরণ করতে পারে।
গুরুত্বপূর্ণ: কোন সিমেন্ট কোন কাজে ব্যবহার হবে, সেই সিদ্ধান্ত নিন প্রকল্পের স্পেসিফিকেশন, ডিজাইনার ও পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে। এই লেখা সাধারণ ধারণা দেয়, নকশার সিদ্ধান্ত নয়।
ব্যাগ দেখে কী বুঝবেন
ব্যাগে সাধারণত থাকে সিমেন্টের ধরন, স্ট্রেংথ ক্লাস (যদি দেওয়া থাকে) ও প্রযোজ্য স্ট্যান্ডার্ডের নাম। পুরোনো কোনো ব্যাগ বা অচেনা ব্র্যান্ড হলে এগুলো মিলিয়ে দেখা ভালো। এ নিয়ে পরে একটি আলাদা লেখা থাকছে।
আরও পড়ার জন্য
- স্ট্যান্ডার্ডের আসল পাঠ: CEN, ইউরোপীয় স্ট্যান্ডার্ড সংস্থা এবং আপনার জাতীয় স্ট্যান্ডার্ড সংস্থা, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে BSTI